নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া উপজেলা–র পৌরসভা এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যবসায়ী হাজী মো. হেলাল উদ্দিন, তাঁর ছেলে ও এক কর্মচারীসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাতিয়া থানা–য় মামলা দায়ের করেন। এর আগে শনিবার রাত ৯টার দিকে ওছখালী পুরাতন বাজারে ‘মেসার্স হাজী হেলাল এন্টারপ্রাইজ’ নামের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহারে মো. ইসমাইল হোসেন (৪২)-কে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বাড়ি স্থানীয় চরকৈলাশ এলাকায়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এতে হেলাল উদ্দিনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ ও রডের আঘাতে গুরুতর জখম হয়। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর ছেলে মো. শাহেদ উদ্দিন এবং দোকানের কর্মচারী টুটুল দাসও আহত হন।
হামলার সময় দুর্বৃত্তরা দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে। পাশাপাশি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল একটি টমটমে করে নিয়ে যায় এবং কয়েকজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এতে প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
আহতদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে ব্যবসা করছি। তারা আগে থেকেই বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করত। সেদিন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকানে হামলা চালায়।
যাওয়ার সময় মামলা করলে দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।”
তবে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো হামলা করিনি। বরং সে নিজেই মারামারির সময় ড্রেনে পড়ে আহত হয়েছে।”
এ বিষয়ে কবির হোসেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), হাতিয়া থানা বলেন, “মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

