খোলা স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা—খোলা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ-
নোয়াখালী জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার ২৮টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ২১টিই বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। তেলের জন্য মাইলের পর মাইল ঘুরেও অনেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না।
জানা গেছে, বর্তমানে চালু থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে জেলা শহর মাইজদীতে একটি, বেগমগঞ্জে পাঁচটি এবং সোনাইমুড়িতে একটি ফিলিং স্টেশন সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করছে। বাকি সব স্টেশন বন্ধ রয়েছে।
মাইজদী শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়ার খবরে সেখানে শত শত মোটরসাইকেল চালকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক হাসান মাহমুদ বলেন, “বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ বাজারে ২৪০ টাকা, থানারহাট বাজারে ৩০০ টাকা এবং সোনাপুর বাজারে ৩০০ টাকা করে তেল বিক্রি হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনে তেল নেই, অথচ খোলা বাজারে কীভাবে বিক্রি হচ্ছে—এটা বড় প্রশ্ন।”
আরেক মোটরসাইকেল আরোহী রাতুল জানান, “যেসব স্টেশন খোলা আছে, সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সংকটের কারণে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।”
ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, আগে ডিপো থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি গাড়িতে তেল সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে একদিন পরপর রেশনিং পদ্ধতিতে অর্ধেকেরও কম তেল দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং ফিলিং স্টেশন মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
জনসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে তেল পেতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত