নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সালিশ বৈঠকের মধ্যে প্রতিপক্ষের হামলায় এক যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রেদোয়ান হোসেন তার বড় ভাই মেহেরাজকে (১৮) হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একই এলাকার পিয়াস, ইমরান, তানভীর, রহমান, নাঈম, হৃদয়, রাজু ও আরাফাতসহ অজ্ঞাতনামা ১৫–১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রামপুর এলাকার রংমালা দারুসসুন্নাহ মডেল আলিম মাদ্রাসার ভেতরে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আগের দিন (২৬ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় বাজারে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
কিন্তু নির্ধারিত সময় ও স্থানে বৈঠক চলাকালে বিবাদীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, পাইপ ও লাঠিসোটা দিয়ে মেহেরাজকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এতে তার পেটে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে হাসপাতালে তাকে প্রায় ৪২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া অন্যান্য অভিযুক্তরা পাইপ ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সময় তার কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার ৪০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
পরে তার অবস্থার অবনতি হলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

