স্বচ্ছতার পথে অটল থেকে পদোন্নতি পেলেন কোম্পানীগঞ্জের এসিল্যান্ড
দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে এক সময় ছিল দালালদের দৌরাত্ম্য, অনিয়ম আর সাধারণ মানুষের দীর্ঘ ভোগান্তি। সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে।
এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম, যিনি সম্প্রতি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার আগে ভূমি অফিস মানেই ছিল দালালদের অভয়ারণ্য। ‘স্পিড মানি’ ছাড়া ফাইল এগোত না, সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো নানা হয়রানিতে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রুবাইয়া বিনতে কাশেম কঠোর অবস্থান নেন। অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে তিনি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলেছেন, যেখানে দালালদের কোনো স্থান নেই।
ফলে এখন সাধারণ মানুষ সহজে, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্ত সেবা পাচ্ছেন। ভূমি সেবা প্রক্রিয়ায় এই ইতিবাচক পরিবর্তন স্থানীয়দের মাঝে আস্থা তৈরি করেছে।
তবে দুর্নীতির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। বেনামী অভিযোগ, অপপ্রচার এবং চরিত্র হননের মাধ্যমে তার মনোবল ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়। এমনকি ‘ছায়া অফিস’ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টাও করা হয়।
এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সততা, নৈতিকতা ও দৃঢ় মনোবলের কারণে তিনি পিছপা হননি। এই লড়াইয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সহযোগিতা ও প্রশাসনিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে দালালচক্রের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
রুবাইয়া বিনতে কাশেম মনে করেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন মানুষ তার প্রাপ্য অধিকার সহজে পায়। এই লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি গণশুনানি, দ্রুত সেবা প্রদান এবং হয়রানি কমাতে কার্যকর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তার নিরলস পরিশ্রম, সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদোন্নতি। সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণ তার এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কোম্পানীগঞ্জবাসীর জন্যও গর্বের বিষয়।
কোম্পানীগঞ্জ ভূমি অফিসে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা একটি সৎ ও দৃঢ় নেতৃত্বের ফল। সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত