নোয়াখালী সদর উপজেলায় দুই সহোদর ভাইকে অপহরণের পর ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম গংয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী দুই ভাই হলেন উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষীপুর এলাকার ফরেস্টার সাহেবের বাড়ির শোয়েব হোসেনের ছেলে মো. ইমদাদুল হক ইমন (২২) ও মো. এহসানুল হক দিহান (২০)।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জেলা শহর মাইজদীর ইউরো শপিং কমপ্লেক্সে জেলা মানবজমিন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবার জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সুধারাম থানাধীন পূর্ব বদরীপুর ডিএসপি জামে মসজিদের সামনে থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে দুই ভাইকে অপহরণ করা হয়।
পরে তাদের উপর নির্যাতন চালিয়ে কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখিয়ে পুলিশে সোপর্দের চেষ্টা করা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেয়।
পরে সোনাপুর কাঠপট্টি এলাকা থেকে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় দুই ভাইকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের হয়রানি করে আসছিল।
পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা এরই ধারাবাহিকতা।
এ ঘটনায় আনোয়ারুল ইসলাম হেলাল (৩৫), মো. আবদুল্যাহ ওরফে রোমান, মো. সুনাম (৩৫), মো. শাওন ড্রাইভার (৩০), মো. সাদ্দাম হোসেন (১৮), মো. মেহেদীসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের পিতা শোয়েব হোসেন বাদী হয়ে গত ৩ মার্চ সুধারাম মডেল থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মামলা গ্রহণে পুলিশ প্রথমে গড়িমসি করে এবং দায়েরের ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মহি উদ্দিন জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত