নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পৃথক বিক্ষোভ মিছিল থেকে মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে উভয়পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় হাতিয়া উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল থেকেই উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু হয়। এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আলাদাভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মিছিল কাছাকাছি চলে এলে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরদিকে আহত হয়েছেন উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিন।
আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের কেবিনে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)কে গ্রেফতার করেছে।
হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির উদ্দিন জানান, বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, লঞ্চে সংঘটিত ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে রাজনৈতিক সহিংসতা না ছড়ায়, সে বিষয়েও প্রশাসনের সতর্ক ভূমিকা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

