নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ডিগ্রি কলেজে অতিরিক্ত ফি আদায় ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এইচএসসি–২০২৬ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়া এবং একই নম্বরে একাধিক রসিদ দেওয়ার মতো অনিয়মও ঘটছে বলে দাবি করেন তারা।
এছাড়া পুনরায় ভর্তি বাবদ এক হাজার টাকা নেওয়া এবং নিয়মিত ক্লাস না হওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা “চোরে রান্ধে, চোরে খায়”, “অতিরিক্ত ফি চোরের বিচার চাই” এবং “অধ্যক্ষ আসে ১২টায়, ক্লাস শুরু কয়টায়?”—এমন নানা স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিজ্ঞান বিভাগে বোর্ড নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৯৯৫ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫৫০ টাকা এবং মানবিক বিভাগে ২ হাজার ৪৩৫ টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার ২৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
পরে দুপুর ১২টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ জামসেদুর রহমান কিসলু, গভর্নিং বডির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন।
আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ৯৯৫ টাকা এবং মানবিক বিভাগে ২ হাজার ৪৩৫ টাকা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগও যাচাই করে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়।
কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে আরেক সদস্য সিরাজ হায়দার বেলাল জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠার ৩২ বছরেও কোনো কার্যকর অডিট হয়নি, তাই শিক্ষার্থীদের অডিটের দাবি যৌক্তিক।
কলেজের অধ্যক্ষ জামসেদুর রহমান কিসলু বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং যৌক্তিক দাবির ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবিগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবেন।

