হিমেল আহাম্মেদ-নোয়াখালীর খবর
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রথম শ্রেণির পৌরসভা বসুরহাটে কোটি টাকার ওয়াসা প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
প্রায় ৪০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের পানির দাবির প্রেক্ষিতে পাঁচ বছর আগে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পানি সরবরাহ শুরু হয়নি।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০ জন গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম অনুযায়ী একজন গ্রাহক একটি সংযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও অর্থের বিনিময়ে অসাধু উপায়ে একাধিক সংযোগ নেওয়া হয়েছে। একই ভবনে ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত সংযোগ থাকার ঘটনাও দেখা গেছে।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন বলেন, “আইন অনুযায়ী একজন গ্রাহক একটির বেশি সংযোগ নিতে পারেন না। অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে আবেদন সাপেক্ষে বড় পাইপলাইন দেওয়া যায়। একাধিক সংযোগ দেওয়া বৈধ নয়।”
প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পার হলেও এখনো পানি সরবরাহ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “এখন পর্যন্ত আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাইনি। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু জানি না।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানির রিজার্ভ ট্যাংক ও পাইপলাইনে মানহীন বা পুরোনো লোহার পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে।
অনেক স্থানে পাইপে মরিচা ধরা স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ১ হাজার ৫০টি পরিবারের সংযোগ লাইন অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, উদ্বোধনের আগেই যদি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এর দায় কে নেবে?

পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও তারা কাঙ্ক্ষিত পানি পাচ্ছেন না। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফখরুল সাহেবের প্রতি আস্থা রেখে তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রকল্প চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এখন পৌরবাসীর একটাই প্রশ্ন—কোটি টাকার এই প্রকল্প আদৌ আলোর মুখ দেখবে, নাকি উদ্বোধনের আগেই ধ্বংসের মুখে পড়বে?

