নোয়াখালীর চাটখিলে শিক্ষার্থীদের করা অভিযোগের তদন্ত চলাকালে এক মাদ্রাসা শিক্ষক মারা গেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সামনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে হুমায়ুন কবির দেওয়ান (৫৭) মারা যান। তিনি চাটখিল উপজেলার মল্লিকার দিঘীরপাড়া ফাজিল মাদ্রাসার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্র জানায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগ তদন্তে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অর্থ) আব্দুল নুর।
অধ্যক্ষের কক্ষে অভিযোগকারীদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। অভিযোগ শোনার পর কমিটি হুমায়ুন কবির দেওয়ানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কথা বলা শুরু করেন। দুই থেকে তিন মিনিট পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল নুর বলেন, শুনানির শেষ পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান জানান, তদন্ত চলাকালে হুমায়ুন কবির দেওয়ান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাইন উদ্দিন বলেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুর বিষয়টি তিনি শুনেছেন।
চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

