হিমেল আহাম্মেদ-নোয়াখালীর খবর-
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় তেলবাহী লরির চাপায় এক সার ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার দুই ছেলে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সোনাপুর–কবিরহাট সড়কের সোন্দলপুর ইউনিয়নের ট্রান্সমিটার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শফিকুর রহমান (৬২) সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত মমিনুল হকের ছেলে। আহতরা হলেন তার দুই ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৩) ও সাইদুর রহমান (২০), এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহাগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মতে সদর উপজেলার সোনাপুর থেকে যমুনা ওয়েলের তেলবাহী একটি লরি কবিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে শফিকুর রহমান মোটরসাইকেলে করে দুই ছেলেসহ নিজেদের দোকানে যান। সকাল ১১টার দিকে দোকানের সামনে বসে কথা বলার সময় তেলবাহী লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দিয়ে পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে।
ঘটনাস্থলেই শফিকুর রহমানের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শফিকুরের দুই ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
কবিরহাট থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঞা জানান, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকচালককে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রায় দুই ঘণ্টা সোনাপুর–কবিরহাট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, সড়কের আশপাশে চার থেকে পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখানে কোনো স্পিড ব্রেকার নেই। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

পরে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্পিড ব্রেকার বা ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

