স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো নতুন মন্ত্রীসভায় নোয়াখালী জেলা থেকে কোনো প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি ঘিরে জেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ নতুন মন্ত্রীসভার প্রতি আস্থা রেখেছেন।
নবগঠিত সরকারের নেতৃত্বে আছেন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে অভিনন্দন জানিয়ে জেলা সদরের শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব ছিল। রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও এ জেলার রাজনীতিবিদরা দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া–এর সময়ে নোয়াখালীর কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এবারের নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিপুল বিজয়ের পরও কাউকে মন্ত্রীসভায় না রাখায় জেলাবাসী আশাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত নতুন মন্ত্রীসভা দক্ষতার পরিচয় দেবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে নোয়াখালী থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা রয়েছে।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ১৯৯১ সাল থেকে নোয়াখালী বরাবরই দলকে অধিকাংশ আসনে জয় এনে দিয়েছে। এত বর্ষীয়ান নেতা থাকা সত্ত্বেও জেলাকে মন্ত্রীসভায় প্রতিনিধিত্ব না দেওয়া দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাতিয়া উপজেলার লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক তার পোস্টে উল্লেখ করেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাদের কেউ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম তারেকও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে নোয়াখালীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের বলেন, মন্ত্রীসভায় নোয়াখালীকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ হলে নোয়াখালীর অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নোয়াখালী বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে জেলার অন্তত দুইজন মন্ত্রী প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নতুন মন্ত্রীসভা নিয়ে একদিকে যেমন আশাবাদ রয়েছে, অন্যদিকে নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব না থাকায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে অসন্তোষও স্পষ্ট। জেলার সাধারণ মানুষ দলীয় পরীক্ষিত এমপিদের মধ্য থেকে অন্তত একজনকে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

