নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একটি কোল্ড কর্নার। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনির মিয়া ও তাঁর পরিবার।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে। বসুরহাট–কবিরহাট মেইন সড়কের পাশে মোতালেব মিয়ার মসজিদের সামনে দন গাজী বাড়ি এলাকার আয়্যাবাড়িতে অবস্থিত মনির কোল্ড কর্নার–এ হঠাৎ আগুন লাগে।
অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দোকানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোকানের ভেতরে থাকা ফ্রিজ, পানীয়, আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে যায়। স্থানীয়দের দ্রুত চেষ্টার পর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে আশপাশের দোকান ও স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান তাঁরা। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় দোকানটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
দোকানের মালিক মনির মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়ি গিয়েছিলাম। কীভাবে আগুন লাগল কিছুই বুঝতে পারছি না। এই দোকানটাই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের ভরসা। সব শেষ হয়ে গেছে।”
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মনির মিয়া এলাকায় একজন শান্ত ও সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাঁর সঙ্গে কারও প্রকাশ্য শত্রুতা ছিল না। ফলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মনির মিয়া এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পাশাপাশি ব্যবসা পুনরায় দাঁড় করাতে সরকারি ও সামাজিক সহায়তার আবেদন জানান তিনি।
এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নয়; এটি পুড়ে যাওয়া একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ এবং বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়। মনির মিয়ার মতো অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যে কতটা অনিরাপদ অবস্থায় জীবিকা নির্বাহ করছেন, এই ঘটনা আবারও সেই বাস্তবতাই সামনে এনে দিয়েছে।

