নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ডিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে থাকা সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার বকশিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সেনবাগ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুল কাউছার জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিদ্যালয়ে আগুন লাগার খবর পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের জানান।
একই সময়ে বকশিরহাট বাজারসহ আশপাশের এলাকার লোকজন বিদ্যালয়ে ছুটে এসে মাঠে থাকা বালু ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, আগুনে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের নিচতলার একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে থাকা ১৪ জোড়া বেঞ্চ, তিনটি বৈদ্যুতিক পাখা, শিক্ষকদের বসার চেয়ার ও সামনের টেবিল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের ধোঁয়ায় আশপাশের শ্রেণিকক্ষগুলো কালো হয়ে গেছে এবং পুড়ে যাওয়া কক্ষটির দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মো. নুরুল কাউছার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি এবং তাঁদের বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। তবে একই কম্পাউন্ডের ভেতরে অবস্থিত বীজবাগ এন কে উচ্চবিদ্যালয় আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
সেনবাগ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ জানান, বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে বিদ্যালয়ে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে রওনা হলেও তাঁদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে একটি শ্রেণিকক্ষের সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভবনটিতে বিদ্যুতের সংযোগ ছিল এবং ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু ছিল।
এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকায় শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা রয়েছে। যেহেতু বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র নয়, তাই বিষয়টি ভিন্নভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত