কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির অভিযোগে কার্যত ভেঙে পড়েছে উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসকের অধিকাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। যাঁরা আছেন, তাঁদের অনেকেই নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী এসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন বা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসক পাওয়া যায় না। জরুরি বিভাগ থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রসূতি সেবা, শিশু চিকিৎসা ও সাধারণ রোগের ক্ষেত্রেও একই চিত্র।
একজন রোগীর স্বজন বলেন,এটা কি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, না শুধু একটা ভবন? ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই সবকিছুর জন্য বাইরে পাঠানো হয়।
এদিকে হাসপাতালের ভেতরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকা ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেক রোগী। দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কিছু কর্মচারীর অসদাচরণের কথাও উঠে এসেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ কোম্পানীগঞ্জের কি কোনো অভিভাবক নেই?
জনগণের অভিযোগ, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে চিকিৎসক নিয়োগ, নিয়মিত তদারকি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে। তারা দাবি জানান, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।
এখন দেখার বিষয় জনগণের এই প্রশ্ন ও ক্ষোভের জবাব কে দেবে?নাকি কোম্পানীগঞ্জের মানুষ স্বাস্থ্যসেবার অধিকার থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে?
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত