নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় উপজেলা শ্রমিকদলের সদস্যসচিব মো. আলমগীর চৌধুরীর একটি অনৈতিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চার মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গণমাধ্যমের হাতে আসে। ভিডিওটি বর্তমানে বিভিন্ন মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
মো. আলমগীর চৌধুরী দুই সন্তানের জনক। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, মো. আলমগীর চৌধুরী বিপরীত প্রান্তে থাকা একজনের সঙ্গে ভিডিও চ্যাটে যুক্ত ছিলেন। ভিডিওজুড়ে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় অশোভন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে ভিডিও চ্যাটিং করেন তিনি। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী ভিডিওটি ফাঁস করে দেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর নির্বাচনী পরিবেশেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে সুবর্ণচরের হারিচ চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী মো. মজিবুর রহমান বলেন, নেতাদের আচরণ থেকেই কর্মী-সমর্থকরা শিক্ষা নেয়। কিন্তু এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হলে নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
তবে অভিযুক্ত মো. আলমগীর চৌধুরী ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এমন ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দিতে পারে।
জেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন (সাবেক কমিশনার) গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত