নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আটজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
নিহত রনির স্ত্রী সীমা বাদী হয়ে সোমবার কবিরহাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজীবাড়ির সামনে সড়কে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিহত মিজানকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণের অভিযোগ ওঠে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
নিহত মিজান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার ভুয়া পুলিশের বাড়ির মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন এবং মাছ ও মুরগির খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন কালিরহাট বাজারে নিজের মাছের প্রজেক্টের স্ট্যাম্প ও পাওনা এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরত চাইলে বিএনপি নেতা এনামুল হক মাসুদের সঙ্গে মিজানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মো. আলি, আলিম উল্যাহ, যুবদল নেতা হাফিজ উদ্দিন, অন্তর, কাশেম, আলাউদ্দিন, রাশেদ, মুরাদ, জোবায়েদ, আসিফ ও মিরণসহ ১৫ থেকে ২০ জন মিজানের মুখ ও মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মামলা দায়েরের তাড়াহুড়োর কারণে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের নাম যুক্ত করা হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা এনামুল হক মাসুদ বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এটি একটি গণপিটুনির ঘটনা। ঘটনার সময় তিনি তাঁর নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, মামলায় আটজনকে নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে আইনগত ব্যবস্থা।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত