নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ জামাল (৩৬) নামে এক কৃষককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি বর্তমানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মনিনগর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত জামাল ওই গ্রামের বেপারী বাড়ির বাসিন্দা ও ওবায়দুল হকের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের প্রায় ৫ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমিটি বহু বছর ধরে জামালের পরিবারের দখলে রয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত ধান চাষ করা হচ্ছিল।
ঘটনার দিন সকালে জামালের বৃদ্ধ বাবা ওবায়দুল হক ধান খেতে কাজ করতে গেলে একই এলাকার বাচ্চুর নেতৃত্বে তার তিন ছেলে-হাফিজ, শিহাব ও নুরউদ্দিন-হঠাৎ করে তার ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে জামাল ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে ওবায়দুল হককে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা পুনরায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা কৃষক জামালের বাম হাত ভেঙে দুই ভাগ করে দেয় এবং মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এছাড়া তার বুকে খন্তা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। ঘটনার পর আহত জামালকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাচ্চুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আহত জামালের পরিবার জানায়, বর্তমানে তারা চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে দ্রুত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

