ক্রীড়া প্রতিবেদক-
মেহেদী হাসান রানার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকেও টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হার এড়াতে পারল না নোয়াখালী এক্সপ্রেস। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় নো-বল ও ওয়াইডের খেসারত দিয়ে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ১ উইকেটে হেরে গেছে নোয়াখালী।
চট্টগ্রামের পর সিলেটের বিপক্ষেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়ল দলটি। ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই হারের পথে ছিল সিলেট। তবে ১৮তম ওভারে রানার টানা তিন উইকেটে ম্যাচে ফিরে আসে নোয়াখালী। কিন্তু শেষ ওভারের ভুলে শেষ পর্যন্ত জয় ধরা দেয়নি।
রানার হ্যাটট্রিকেও রক্ষা হয়নি
১৮তম ওভারের শেষ তিন বলে সিলেটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ ও খালেদ আহমেদকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেহেদী হাসান রানা। চলতি আসরের প্রথম এবং বিপিএল ইতিহাসের নবম হ্যাটট্রিক এটি।
১২৫ রানে ৫ উইকেট থাকা সিলেট মুহূর্তেই পরিণত হয় ৮ উইকেটে। তখন ১২ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান।
শেষ ওভারের নাটক
১৯তম ওভারে হাসান মাহমুদ মাত্র ৬ রান দিলে ম্যাচ জমে ওঠে। শেষ ওভারে বল হাতে নেন সাব্বির হোসেন। দুই বল ডট দেওয়ার পর নো-বল করেন তিনি। ফ্রি হিটে ছক্কা ও পরের বলে চার হজম করেন।
পঞ্চম বলে ইথান ব্রুকস রানআউট হলে শেষ বলে জয়ের জন্য সিলেটের দরকার ছিল ২ রান, হাতে ছিল ১ উইকেট। কিন্তু সাব্বির ওয়াইড করলে ম্যাচ ড্র হয়ে যায়। পরের বলে এক রান নিলে জয় নিশ্চিত করে সিলেট, আর হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে নোয়াখালী।
সিলেটের ব্যাটিং
লক্ষ্য তাড়ায় সিলেটের শুরুটাও ভালো হয়নি। দ্বিতীয় বলেই সাইম আইয়ুব রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন। এরপর রনি তালুকদার (৯) ও জাকির হাসান (১৩) ফিরলে ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারায় দলটি।
তবে পারভেজ হোসেন ইমন ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৮৩ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে সিলেট। ৪১ বলে ৬০ রান করে ইমন আউট হলেও সিলেট তখন জয়ের খুব কাছাকাছি।
নোয়াখালীর ব্যাটিং সংগ্রাম
এর আগে টস জিতে নোয়াখালীকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় সিলেট। শুরুতেই ধসে পড়ে নোয়াখালীর ইনিংস। প্রথম তিন ব্যাটারই রানের খাতা না খুলে আউট হন। ৪১ রানে ৪ উইকেট হারায় দলটি।
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও জাকের আলী অনিকের ৬৬ রানের জুটিতে কোনোভাবে লড়াইয়ে ফেরে নোয়াখালী। ১৭ বলে ২৯ রানের ক্যামিও খেলে আউট হন জাকের। শেষ পর্যন্ত অঙ্কনের ধীরগতির ফিফটিতে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান তোলে নোয়াখালী।
৫১ বলে ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন অঙ্কন। সিলেটের হয়ে খালেদ আহমেদ নেন ৪ উইকেট, সাইম আইয়ুব নেন ২টি এবং মোহাম্মদ আমির নেন ১ উইকেট।

