এম.এস.আরমান,কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি।
সৌদি আরবে মানসিক চাপে নোয়াখালীর আব্দুল আউয়াল নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশী মৃত্যু বরণ করেছেন। হতাশা ও স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যতার কারণেই হার্ট অ্যাটাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু দাবি করেন তার মা রওশন আরা বেগম। মায়ের কাছে ছেলের সর্বশেষ দোয়ার আবেদন ছিল, আল্লাহ যেন আমার মৃত্যুটা প্রবাসেই করেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের হাফেজ সৈয়দ আহমেদের বাড়িতে গেলে নিহতের মা এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ছেলে দুই মাস ১৫ দিনের ছুটিতে থাকা অবস্থায় একটা দিনও শান্তিতে কাটাতে পারেনি তার স্ত্রীর কারণে। সারাদিন বাড়িতে ঝগড়া ও মনোমালিন্যতায় কাটতো ছেলের। বউকে সান্ত্বনা দিতে কক্সবাজার ও ঘুরতে নিয়েছিল ছেলে। সর্বশেষ অতিষ্ট হয়ে বউকে না জানিয়ে প্রবাসে চলে যান ছেলে। যাওয়ার সময় ছেলে সর্বশেষ মায়ের কাছে বলেছেন,আল্লাহ যেন আর এই দেশে আমাকে না আনে, আমার মৃত্যুটা যেন বিদেশে হয়।
জানা যায়, এক ভাই এক বোনের মধ্যে আব্দুল আউয়াল পরিবারের বড় সন্তান, ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে,টিউশনি ও ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করে সংসার চালাতেন আব্দুল আউয়াল,প্রায় ৪ বছর পূর্বে নোয়াখালীর সোনাপুর এলাকায় সুরাইয়া জাহানের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের। তাদের সংসারে রয়েছে তিন বছরের একটি কন্যা সন্তান। বিয়ের পর থেকে মা এবং বোনকে বাড়িতে রেখে বাসায় যাওয়ার দাবী ছিলো স্বামীর কাছে স্ত্রী সুরাইয়া জাহানের। কিন্তু একমাত্র মাকে একা রেখে স্ত্রীর মন জয় করতে না পারায় মৃত্যু পথযাত্রী হতে হলো এই রেমিটেন্স যোদ্ধার।
এ বিষয়ে নিহত আব্দুল আউয়াল এর সাথে প্রবাসে থাকা তার ভগ্নিপতি লিটন জানান, দ্বিতীয়বারের মতো গত ২৯ সেপ্টেম্বর আব্দুল আউয়াল সৌদি আরব আসেন, প্রায় হতাশাগ্রস্থ থাকতেন তিনি, মুঠোফোনে বাড়িতে প্রায় ঝগড়া হতো তার। গত বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থ হয়ে বুকে ব্যথা ও একাধিকবার রুমে বমি করেন তিনি, পরে তাকে হসপিটালে ভর্তি করে অপারেশন করা হয়,অপারেশন শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে নিজ পায়ে হেঁটে বাহিরে আসেন তিনি,সর্বশেষ শুক্রবার গভীর রাতে আবারও হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় তার। ডাক্তার জানান,হার্টে থাকা ৪ টি ব্লক সফলভাবে অপারেশন করা হয়,কিন্তু অতিরিক্ত মানসিক চাপ তাকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিহত প্রবাসীর সমাজ প্রতিনিধি বেলায়েত হোসেন ফরহাদ জানান,মধ্যবিত্ত পরিবারের শান্তশিষ্ট ছেলে ছিল আব্দুল আউয়াল,দীর্ঘদিনের পারিবারিক সমস্যা নিয়ে সমাধানের চেষ্টায় কমতি ছিল না তার,মায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসায় পরিবারের অতিরিক্ত মানসিক চাপে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় তার। একজন প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধার এমন মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত