কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি-
নোয়াখালী-
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসাইনের বিরুদ্ধে সাত শিবির নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের পলাতক সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জামায়াত নেতা মাওলানা মোশাররফ হোসাইন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো কোম্পানীগঞ্জে এটি ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়। এদিন আবদুল কাদের মির্জা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে অভিযোগ তোলেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে কাদের মির্জা দাবি করেন, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বসুরহাটে পুলিশের গুলিতে সাত শিবিরকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় তাকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াত নেতা মাওলানা মোশাররফ হোসাইন। তিনি লেখেন, ওইদিন তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ছিলেন। তবে পুলিশের লোকজন ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা না দেওয়ার কথা বলে এবং মামলা থেকে অব্যাহতির আশ্বাস দিয়ে মাওলানা মোশাররফ হোসাইন কত টাকা নিয়েছেন—তার হিসাব নাকি তাদের দলের কাছে রয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন,
‘তুই ইসলামের রাজনীতি করিস, আস আমি আর তুই মসজিদে ঢুকি। কুরআন মাথায় নিয়ে আমি বলতে পারব আমাদের দলের কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না। কিন্তু তুই পারবি না। কারণ তুই মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিস।’
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, মাওলানা মোশাররফ হোসাইনের প্ররোচনায় তাকে এক নম্বর আসামি করে ১১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর জবাবে মাওলানা মোশাররফ হোসাইন নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে কাদের মির্জার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন,
‘আপনি নিজেই প্রমাণ করেছেন যে ৭ শহীদের ঘটনার সাথে আপনি জড়িত। আপনার অনুমতি ছাড়া পুলিশ গুলি করেনি। পুলিশ নিজেরাই বিষয়টি বলেছেন। আপনি অনেক মিথ্যা মামলা করেছেন। প্রমাণ দিন—কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। অহেতুক মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে নিজের সম্মান নষ্ট করবেন না।’
তিনি আরও লেখেন,
‘আপনি অনেক ভালো কাজ করেছেন, আমরা তা অস্বীকার করি না। কিন্তু আপনার রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা প্রতিহিংসার নয়, প্রতিযোগিতার রাজনীতি করি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বসুরহাট পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসাইন বলেন,
“আবদুল কাদের মির্জাকে সামনে এসে প্রমাণ দিতে বলুন—আমি কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। প্রয়োজনে মসজিদে গিয়েও প্রমাণ দেওয়া যাবে। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে বলেই আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি।”
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে জেলা জামায়াতের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দ অবগত আছেন এবং সময়মতো বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় পুলিশের গুলিতে সাত শিবির নেতাকর্মী নিহত হন। নিহতরা হলেন—আব্দুস সাত্তার, সাইফুল ইসলাম, মতিউর রহমান সজিব, আব্দুর নুর রাসেল, আব্দুল আজিজ রায়হান, সাইফুল ইসলাম ও মো. মিশু।
প্রসঙ্গত, আবদুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত