সুবর্ণচর প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর খবর-
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
দেশব্যাপী ৩ দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে সুবর্ণচরের কোনো স্কুলেই বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। অধিকাংশ স্কুলে তালা ঝুলতে দেখা গেছে, শিক্ষকরা অনুপস্থিত। পরীক্ষা দিতে এসে শিক্ষার্থীরা অনেকেই স্কুল আঙিনায় খেলে সময় কাটাচ্ছে, আবার কেউ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে।
উত্তর চরজুবিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরো প্রতিষ্ঠান ফাঁকা। এক অভিভাবক মো. আলা উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া সরকারি বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা হয় কীভাবে? আগামী বছরে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করানোর চিন্তা করছেন।”
আরেক অভিভাবক বোরহান উদ্দিন ইমরান বলেন, “আমার ছেলে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা দিতে এসে দুই দিন ধরে ফিরে যাচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালীন আন্দোলন করা অতিরিক্ত হয়ে গেছে।”
অভিভাবক মতিউর রহমান মোল্লা জানান, “সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।”
শিক্ষক প্রতিনিধি ফিরোজ শাহ বলেন, “শিক্ষকদের আন্দোলনকে সম্মান করি, তবে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে আন্দোলন সমালোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।”
উত্তর চরজুবিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) ফারহানা ইয়াসমিন জানান, “সহকারী শিক্ষকদের টাইমস্কেলসহ অন্যান্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কোনো শোকজ নোটিশ আমাদের আন্দোলন থেকে সরাতে পারবে না।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসিম ফারুকী বলেন, “দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, “আমি স্কুলগুলোকে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বহুবার অনুরোধ করেছি। বেশিরভাগ শিক্ষক রাজি থাকলেও কয়েকজনের অনীহায় পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি জেলা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবিব বলেন, “এটি জাতীয় ইস্যু। অধিদপ্তর থেকে পরীক্ষা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা না নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হবে।”
শিক্ষক-অভিভাবক দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে সুবর্ণচরের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত