নিজস্ব প্রতিবেদক | নোয়াখালী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে দুই পক্ষের অন্তত ২৪ জন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, তদন্তে গুরুতর কোনো সংঘর্ষ বা আহতের তথ্য মেলেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন দুর্গাপুর এম. এ. মতিন দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন, সহকারী শিক্ষক মো. ইব্রাহীম, সহকারী শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রতন চন্দ্র দে এবং শিক্ষার্থী উদয়সহ মোট ২৪ জন। আহতদের মধ্যে চারজনকে বেগমগঞ্জ লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চৌমুহনী মোদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় ও দুর্গাপুর এম. এ. মতিন দাখিল মাদ্রাসার মধ্যকার ম্যাচে রেফারিং ও খেলা পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ক্রীড়া শিক্ষকের পরিবর্তে গণিতের শিক্ষককে দিয়ে খেলা পরিচালনা করানো হয়।
এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে লক্ষ্মীনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কিছু শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে দুর্গাপুর এম. এ. মতিন দাখিল মাদ্রাসার চারজন শিক্ষক, ১৫ জন শিক্ষার্থী, একজন কর্মচারীসহ দুই পক্ষের মোট ২৪ জন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লক্ষ্মীনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউদ্দিন। তিনি বলেন, "শান্তিপূর্ণভাবে খেলা শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর মধ্যেই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে।"
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কায়েসুর রহমান বলেন, "ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। আমাদের তদন্তে গুরুতর কোনো সংঘর্ষ বা আহতের তথ্য মেলেনি। খেলার মাঠে ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে।"
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আহতের দাবির বিপরীতে প্রশাসনের ভিন্ন বক্তব্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত