নোয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ জজ মো. শওকত আলী দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩ মার্চ নোয়াখালী সদরের মাইজদী বাজার পুরাতন কলেজ পুকুরে আসামি সৌরভ একটি কুকুর গোসল করানোর সময় স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের অনুমতি ছাড়া তার শ্যাম্পু ব্যবহার করেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে সৌরভ আনোয়ারকে মারধর করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যায় পুরাতন কলেজ রোডে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ চলাকালে আনোয়ারের বন্ধু ফজলে হুদা রাজিব, সাইফুল ইসলাম ওয়াসিম ও ইয়াসিন কুকুরকে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানোর প্রতিবাদ করেন।
একপর্যায়ে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পির নেতৃত্বে আসামিরা সেখানে সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ফজলে হুদা রাজিব (২৬), সাইফুল ইসলাম ওয়াসিম (২৫) ও ইয়াসিন (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। নিহত তিনজনই নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজদী বাজার এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহত রাজিবের মা কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর ৪২৭/১৬ এবং পরবর্তীতে দায়রা মামলা নম্বর ৭৬৫/১৯ হিসেবে বিচার কার্যক্রম চলে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামি ওমর সানি সাজু, ওমর শরিফ সুলতান ও সৌরভকে মৃত্যুদণ্ড এবং ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি, কুদরত উল্যা ও হারুন অর রশিদ বাবুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বরকত উল্যা রাশেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি তাফাক্কার হোসেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
মামলার আসামিদের বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদী বাজার পুরাতন কলেজের অনন্তপুর এলাকায় বলে জানা গেছে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত