অতিবৃষ্টির কারণে নোয়াখালীর ৯টি উপজেলায় ব্যাপক ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ১৪ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৫৭৭.৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৩৮ হাজার ৫৬৪ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৩ কোটি ৫০ লাখ ৭ হাজার ৮৭২ টাকা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলার ৩১ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমির মধ্যে ৬ হাজার ৪৫৬ হেক্টর আউশ ধান নষ্ট হয়েছে। এতে ৪ হাজার ৩০৪ জন কৃষকের প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া জেলার ২ হাজার ৭৩২ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে ১ হাজার ৫৩৬ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৩৮৪ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ২১ হাজার ৫৫০ জন কৃষকের প্রায় ৭৯ কোটি ৮ লাখ ৭ হাজার ৮৭২ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন সবজির ৪ হাজার ৮১২ হেক্টর জমির মধ্যে ৫৭০ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৩৮০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১২ হাজার ৫১০ জন কৃষকের প্রায় ১৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
জেলার ৯ হাজার ১৫ হেক্টর ফলবাগানের মধ্যে ১২ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৯০ জন কৃষকের প্রায় ২৭ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে ৭৮ হেক্টর মরিচের জমির মধ্যে ৪ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৪ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১১০ জন কৃষকের প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
অতিবৃষ্টির প্রভাবে স্থানীয় কাঁচাবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সবজির দাম বেড়েছে এবং কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি প্রায় ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর জানান, ১৪ জুলাই পর্যন্ত অতিবৃষ্টিতে বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত ফসলের ক্ষয়ক্ষতির একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত