নোয়াখালী জুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বারবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎনির্ভর কলকারখানায়।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থীরা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহে তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জেলা শহর, উপজেলা সদর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারের কম্পিউটার, ফটোস্ট্যাট ও প্রিন্টিং ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান লোডশেডিং এবং বারবার বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার, ফটোস্ট্যাট মেশিনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড (আরইবি) সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রায় ৪০ শতাংশ চাহিদা অপূর্ণ থাকায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, নোয়াখালী জেলায় তাদের প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বর্তমানে জেলার বিদ্যুতের চাহিদা ১৯৮ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ থেকে ১২০ মেগাওয়াট।
অন্যদিকে, পিডিবির আওতায় প্রায় এক লাখ গ্রাহক রয়েছেন। তাদের দৈনিক চাহিদা ৩৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট।
এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মকবুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক চলছে। তবে বর্তমানে বড় ধরনের সংকট নেই এবং লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত