কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নোয়াখালী জেলায় সেরা ফলাফল করেছে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫।
তবে জেলার সার্বিক ফলাফলে নোয়াখালী রয়েছে কুমিল্লা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে। এবার নোয়াখালী জেলার পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বিপরীতে কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ বোর্ডের গড়ের চেয়ে নোয়াখালীর পাসের হার ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ পয়েন্ট কম।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ২৪৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও বিদ্যালয়টি জেলার ফলাফলে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
জেলায় ফলাফলের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী জিলা স্কুল। বিদ্যালয়টি থেকে ২৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
মেয়েদের পাসের হার বেশি
জেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নোয়াখালীতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ও পাসের হার বেশি।
এ বছর জেলায় ১০ হাজার ৩৫৭ জন ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬ হাজার ৮ জন। অন্যদিকে ১৪ হাজার ৭২৬ জন মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ৩৮ জন।
এবার নোয়াখালী জেলায় মোট ১ হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। শতভাগ পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা চারটি।
গত বছর নোয়াখালী জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশে।
উপজেলায় এগিয়ে কোম্পানীগঞ্জ, পিছিয়ে হাতিয়া
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে পাসের হারে নোয়াখালীতে এগিয়ে রয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলা। এ উপজেলার শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ৬৩০টি জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তবে সবচেয়ে কম পাসের হার হাতিয়া উপজেলায়। সেখানে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশ।
নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষকদের কঠোর নজরদারি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, অভিভাবকদের সঠিক তত্ত্বাবধান এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায়ই এ সাফল্যের মূল কারণ।
তিনি বলেন, গত বছরও বিদ্যালয়টি জেলায় ফলাফলে শীর্ষস্থানে ছিল। আগামী বছরও শতভাগ ফলাফল ধরে রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত