নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার লকার থেকে ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে এক কর্মকর্তা উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তাকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ১ নম্বর জয়াগ ইউনিয়নের জয়াগ বাজারে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং (ইউডিসি) শাখার লকার থেকে নগদ ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে মো. নূর উদ্দিন আসিফ (৩৩) নামে এক কাস্টমার সার্ভিস অফিসার উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আসিফকে প্রধান আসামি করে তাঁর পরিবারের আরও দুই সদস্যের বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যাংকের এজেন্ট মো. নূরুল আফছার। বুধবার (১২ আগস্ট) তিনি থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জয়াগ ইউনিয়নের যুগিখিলপাড়া এলাকার মৃত মাহমুদুল হকের ছেলে নূর উদ্দিন আসিফ ২০২০ সাল থেকে ওই এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় কাস্টমার সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ব্যাংকের জেলা ব্যবস্থাপকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শাখাটিতে নিয়মিত পরিদর্শনে যান। এ সময় তাঁরা আসিফের কাছে অফিসের নথিপত্র ও হিসাব-নিকাশ দেখতে চান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও হিসাব না দিয়ে হঠাৎ অফিস থেকে বের হয়ে যান।
পরবর্তীতে শাখার লকার পরীক্ষা করে নগদ ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এরপর আসিফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বাড়িতেও খোঁজ নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আসিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা প্রথমে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে তাঁরা বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযোগকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আসিফের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্য কামরুন নাহার (২৫) ও আয়েশা খাতুন (৭০)কে অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানা-পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ব্যাংকের লকার থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উধাও হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় ওই শাখার গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁদের জমাকৃত অর্থ যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নূর উদ্দিন আসিফের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত