নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাশয় ভরাট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের সময় পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে লাখো মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে।
পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অধিকাংশ খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে এবং অনেক ড্রেনে স্লাব না থাকায় সেগুলো ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ড্রেনগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে পানি চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছরে দ্রুত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ হলেও সে অনুযায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। অনেক এলাকায় খাল, নালা ও জলাধার ভরাট করে ভবন নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর পরিকল্পনা ছাড়া অবকাঠামো নির্মাণ, খাল ও জলাশয় দখল এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করার কারণে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়া খাল-নালা পুনরুদ্ধার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জলাবদ্ধতা রোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্ভোগ থেকে পৌরবাসীকে রক্ষা করা হোক।
বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনটি একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি ও স্থানীয়দের উদ্বেগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে উল্লেখিত আশঙ্কা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের বক্তব্য যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য হবে।
সম্পাদক হিমেল আহাম্মেদ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত